ম্যাচের পর পর্তুগিজ টেলিভিশনকে জেসাস বলেন, “আমি জানি না কী হবে। তবে আমার দিক থেকে সব কিছুই খোলা।” রোনাল্ডোকে আবার জাতীয় দলে ডাকবেন কি না, সরাসরি প্রশ্ন করা হলে অবশ্য সিদ্ধান্তের ভার রোনাল্ডোর উপরেই ঠেলে দিয়েছেন পর্তুগাল কোচ। তাঁর কথায়, “ক্রিসকেই ঠিক করতে হবে, ও কী চায়। সিদ্ধান্তটা তারই। যদি এখনও জাতীয় খেলতে চায়, তা হলে অবশ্যই সুযোগ আছে। তবে এই সিদ্ধান্ত আমার হাতে নেই।”
রোনাল্ডোকে আবার জাতীয় দলে ডাকবেন কি না, সরাসরি প্রশ্ন করা হলে অবশ্য সিদ্ধান্তের ভার রোনাল্ডোর উপরেই ঠেলে দিয়েছেন পর্তুগাল কোচ।
অনেকেই বলছেন, গত কয়েক দিনে পর্তুগাল শিবিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তাতে জল ঢালার চেষ্টা করেছেন জেসাস। নেশনস লিগ চলাকালীন ডেনমার্ক ম্যাচের আগে আচমকাই জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে দেন রোনাল্ডো। পরে এক্স-এ তিনি লেখেন, ‘জাতীয় দলের কোচের সাংবাদিক সম্মেলন এবং পর্তুগিজ ফুটবল সংস্থার সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সার সঙ্গে আলোচনার পরেই শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাতীয় দলের হয়ে আমি সব সময় নিজের সেরাটা দিয়েছি। কেন দল ছাড়লাম, খুব তাড়াতাড়িই দেশের মানুষের সামনে পুরো বিষয়টি জানাব। আপাতত সতীর্থদের জন্য রইল শুভেচ্ছা।’
ঘটনার সূত্রপাত কোচ জেসুসের সিদ্ধান্ত ঘিরে। ওয়েলসের বিরুদ্ধে ৬৭ মিনিটে রোনাল্ডোকে তুলে নেওয়া হয়। নরওয়ের বিরুদ্ধে আবার পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকতে হয় তাঁকে। এমনকী তাঁকে গা গরম করিয়েও মাঠে নামাননি কোচ। তবে জেসাস এখন জানাচ্ছেন, এত বড় কোনও সংঘাত হয়নি। তাঁর কথায়, “এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। বিষয়টা সহজেই মিটিয়ে ফেলা যায়।” রোনাল্ডোর সঙ্গে হয়তো ‘সমঝোতা’ চাইছেন জেসুস। অর্থাৎ, আগামী দিনে পর্তুগিজ মহাতারকার জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন না জেসাস। পরবর্তী দল ঘোষণার আগে রোনাল্ডোর কোর্টে বল ঠেলে দিয়েছেন। এখন সিআর৭ কী করেন, সেটাই দেখার।
রোনাল্ডোর সঙ্গে হয়তো ‘সমঝোতা’ চাইছেন জেসুস। অর্থাৎ, আগামী দিনে পর্তুগিজ মহাতারকার জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন না জেসাস।
উল্লেখ্য, দু’দিন আগেই জেসাস বলেছিলেন, “আমি কোচ, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও আমার। কোনও ফুটবলারকে খেলাব না বলতেই পারি। কাউকে যদি ৩০ মিনিট প্রয়োজন হয়, সে ৩০ মিনিটই খেলবে। প্রয়োজন না হলে খেলবে না। কোনও ফুটবলার আমার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে পারবে না।” রোনাল্ডোকে গা গরম করিয়েও কেন মাঠে নামানো হয়নি, তার ব্যাখ্যাও দেন জেসুস। তাঁর কথায়, “আমি রোনাল্ডোকে জানিয়েছিলাম, ওই দু’টি ম্যাচে ও খেলবে না। পরে ম্যাচের মধ্যে গা গরম করতে বলেছিলাম। এতক্ষণ গা গরম করার পরেও মাঠে নামতে না পারলে খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। রোনাল্ডো চাইলে সেটা আমাকে বলতে পারত। তবে তাতেও আমার পরিকল্পনা বদলাত না।” এরপর জাতীয় শিবির ছাড়েল সিআর৭। তাতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোনাল্ডো সমর্থকরা। তাঁরা বলেন, যাঁর সৌজন্যে আজ পর্তুগালের নামের পাশে ইউরো কাপ, নেশনস লিগের মতো ট্রফি, তাঁকেই শেষমেশ ‘অপমানিত’, ‘লাঞ্ছিত’ হয়ে ছাড়তে হল পর্তুগাল শিবির। রোনাল্ডোর অপমানে ফুঁসে ওঠেন তাঁর বোন এলমা। এত সমালোচনার পর হয়তো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরতে বাধ্য হলেন পর্তুগাল কোচ।
