মাঝখানে কেটেছে মাত্র ৩০ মিনিট সময়। তারমধ্যেই এশিয়ান গেমসে তিনটি সোনা জিতে নিল ভারত। প্রথমে সোনা পারভিন হুডার। চিনা প্রতিপক্ষকে হারিয়ে তিনি সোনা জিতে নিলেন মহিলাদের ৬৫ কেজি বিভাগে। তারপর অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল। আগাগোড়া দাপট দেখিয়ে বক্সিংয়ের ৮০ কেজি বিভাগে সোনা জিতলেন। প্রথম কয়েক মিনিটে পিছিয়ে থাকলেও শেষ মুহুর্তে কিস্তিমাত করে কুস্তিতে সোনা পেলেন সুজিত কালকাল। পদক তালিকায় ভারত চলে এল প্রথম পাঁচে।
এশিয়ান গেমসে পারভিনের অতীতটা অত্যন্ত যন্ত্রণার। ২০২২ সালে ৬৫ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। কিন্তু ডোপ টেস্টে ফলাফলের দরুণ কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর পদক। এমনকি প্যারিস অলিম্পিকে নামার অনুমতিটুকু ছিল না। তবে চারবছর ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে প্রস্তুতি নিয়েছেন পারভিন। দিনকয়েক আগে কমনওয়েলথ গেমসেও হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছিল। ২-৩ ফলে হেরে যান কোয়ার্টার ফাইনাল। পদক মেলেনি। কিন্তু যাবতীয় ব্যর্থতা ভুলে গিয়ে শুক্রবার তিনি নেমেছিলেন বক্সিং রিংয়ে। তাইওয়ানের বক্সার চেন নিয়েন চিনকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হারিয়ে জিতে নিলেন সোনা।
বক্সিংয়ে আরেকটা ফাইনালেও দারুণ দাপট দেখাল ভারত। অঙ্কুশের প্রতিপক্ষ কিম মিনসিওং প্রচুর চেষ্টা করলেও কাবু করতে পারেননি। প্রথম রাউন্ডে তবু খানিকটা ব্যাকফুটে ছিলেন অঙ্কুশ। কিন্তু পরের দু’টো রাউন্ডে তাঁর বিষাক্ত পাঞ্চের জবাব ছিল না প্রতিপক্ষের কাছে। দাপুটে পারফরম্যান্সে এশিয়াডে সোনা জিতলেন অঙ্কুশ। শুক্রবার রিংয়ে নেমেছিলেন ভারতের তিন বক্সার। সকালে সোনা জিতেছিলেন লভলিনা বরগোহাঁই। তারপরই পারভিন এবং অঙ্কুশ এনে দিলেন সোনালি সাফল্য।
তবে এদিনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপহার দিলেন সুজিত। কুস্তিতে ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগে তাজিকিস্তানের আবদুলমাজিদ কুদিয়েভের বিরুদ্ধে ফাইনাল খেলতে নেমেছিলেন। প্রথম তিন মিনিটে ২-৯ পিছিয়ে ছিলেন সুজিত। সোনার আশা তখন ছেড়েই দিয়েছেন ভারতীয় ভক্তকুল। কিন্তু বিরতির পর থেকে ধীরে ধীরে খেলা ঘুরিয়ে দেন সুজিত। দু’টো করে পয়েন্ট জিততে শুরু করলেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১০ সেকেন্ড আগে ১০-৯ পয়েন্টে এগিয়ে যান। দেশকে এনে দেন নাটকীয় সোনা। পরপর তিনটি সোনা জিতে পদক তালিকায় লাফ দিল ভারত। ৭৫টি পদক নিয়ে ভারত পঞ্চম স্থানে।
